Skip to main content

শিলা:3

পরন্ত দুপুর। শিলা সোফায় গুটি মেরে টিভি দেখছে। জানালার কাঁচ ভেদ করে রোদের আলো টিভির পর্দায় এসে পরেছে। অস্পস্ট ছবিতে শিলা দেখছে, একটা ছেলে পাহাড়ের শেষ মাথায় দাড়িয়ে আছে। হাতে একটা বই আর একটা ব্যাগ। ছেলেটার সামনে কিছু বিবর্ণ পাখি উড়ছে। টিভির অস্পস্ট শব্দে ইংরেজি একটা গান শিলার কানে ভেসে ভেসে আসতে থাকে। শিলার চোখ বুজে যাচ্ছে। শিলার স্বপ্নের জগৎ ক্রমেই স্পস্ট হচ্ছে। এক শূন্য জগৎ। সবকিছু সাদা। আশেপাশে কোনো বস্তুুর অস্তিত্ব নেই। যতদূর চোখ যায় সব সাদা। শিলার পায়ের নিচে কিছু নেই। এই জগৎ যেমন শূন্য তেমনি অসীম। এই শূন্যতার কোনো শেষ নেই। এই জগতে কেবলই শিলা। শিলা আতঙ্কিত চোখে চারদিকে তাকায়। নাহ্, কেউ নেই। 

শিলার সামনে একটা কালো বিন্দু ক্রমেই বড় হচ্ছে।
একটা মানুষ। নাহ্, একটা ছেলে। হ্যা, একটা ছেলে। ছেলেটা ক্রমেই শিলার দিকে এগিয়ে আসে। ময়লা হালকা হলুদ টি-শার্ট পরা। উষ্ক-খুষ্ক চুল। মুখে বহুদিনের পুরোনো কাটা দাগ। শিলা নিঃশ্বাস বন্ধ করে দাড়িয়ে থাকে। ছেলেটা শিলার সামনে এসে দাড়ায়। ছেলেটা হাতে এক গোছা ময়লা রসি ঝুলছে। শিলা নিঃশব্দে একটা নিঃশ্বাস ছেড়ে দেয়। ছেলেটার মুখ মন খারাপের মত হয়ে যায়। ছেলেটা তার হাত বাড়িয়ে দেয় শিলার দিকে। ছেলেটার মুখ আরও মন খারাপের মত হয়ে যায়। শিলার সামনের শূন্য জগৎ থেকে হঠাৎ শূন্যতা হারিয়ে যেতে শুরু করে। শূন্য জগৎ একটা বিস্তৃত সবুজ ঘাসের প্রান্তর মনে হতে থাকে। শূন্যতা হারানোর সাথে সাথে সব কিছু অস্পস্ট হতে থাকে। সবকিছু অন্ধকার হয়ে যায়, শিলা আর কিছু দেখতে পায় না। শিলার কানে ধরা ধরা কিছু আওয়াজ আসে। চোখ খোলে শিলা।
আধো অন্ধকার ঘরে শিলা সোফায় গুটি মেরে শুয়ে আছে। মাগরিবের আজান হচ্ছে, কোনো বয়স্ক মানুষের ধরা গলা। শিলার হঠাৎ স্বপ্নের কথা মনে পরে যায়।
কে ছিল ছেলেটা? শিলার মনে হতে থাকে ছেলেটাকে সে কোথাও দেখেছে। কিন্তু মনে করতে পারে না..

Comments

Popular posts from this blog

মন প্রোকৌশল, স্বপ্ন অনুপ্রেরনা আর জীবন গড়ার ফরমুলা

" মন প্রোকৌশল , স্বপ্ন অনুপ্রেরনা আর জীবন গড়ার ফরমুলা " বইটার নাম , শুনতে অদ্ভুত এবং অস্বাভাবিকভাবে বড়। নাম শুনেই সহজেই বলে দেয়া যায় যে বইটা মূলত কিসের ওপর লেখা। হ্যা , মোটিভেশনাল ক্যাটাগরির বই এটা। মোটিভেশনাল ক্যাটাগরির হলেও সামান্য বিশেষত্য আছে এতে। একটু পরেই তা ব্যক্ষা করছি। বাংলা ভাষায় লেখা এরকম বই খুবই কম আছে , যদিও এখন এর সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে।   এই বইটার যে দুইটা জিনিস আমাকে প্রথম দফাতেই চমৎকৃত করেছে সেটা হল , এর ফ্রন্ট কভারের ডিজাইনটা এবং এর ব্যক কভারে লেখা লেখকের সম্পর্কে …… এই বইটা অনেক ছোট ছোট অনুপ্রেরণা মূলক প্রবন্ধ দিয়ে ভর্তি যেগুলো কোনোভাবেই দুই পাতার বেশি নয়। খুবই ছোট ছোট প্রবন্ধ। এই প্রবন্ধ গুলো অনুপ্রেরনা মূলক হলেও , আমার নিজের দৃষ্টি থেকে এই প্রবন্ধগুলো আমাদের প্রচলিত চিন্তাধারার পেছনে , প্রশ্নবোধক চিহ্ন জুরে দেয়৷ আমরা সচরাচর যেভাবে চিন্তা করি তাতে সামান্য পরিবর্তন আনতে সাহস জোগায়। বইটাকে কেন সম্পূর্ণভাবে মোটিভেশনাল ক্...

3D Printing ,যেটার উপর আমরা নির্ভরশীল হতে যাচ্ছি

একসময় হাতে বই লেখা হত, তারপর ফর্মায় ফেলে দ্রুত বই তৈরি করা হল,  তারপর ফটোকপি মেশিন সেটাকে আরো একটু দ্রুত করে দিল, আর এখনকার কথা,  তো সবাই জানি। কত কম সময়ের মধ্যে কত বিশাল পরিমান বই তৈরি করে ফেলা হচ্ছে।   আর এর মূলে কিন্তু রয়েছে আধুুনিক সব প্রিন্টার। এই সব প্রিন্টারের দ্রুততা,  নিখুততা আমাদের কল্পনাকেও হার মানাচ্ছে।  তবে এর ভবিষ্যৎ কি? হাতে লেখার ভবিষ্যৎ ছিল,  ফর্মা, আবার ফর্মার ভবিষ্যৎ হল ফটোকপিয়ার।  যারা একটু ইন্টারনেট ঘাটাঘাটি করেন তারা নিশ্চয়, একটু আন্দাজ করতে পারছেন, 3D printer নামে একটা জিনিস বেশ কয়েক বছর ধরে শোনা যাচ্ছ,  তবে আম জনতার(mango people😁) মাঝে এটা খুব একটা হাইপ তুলতে পারেনি কারন,  বিষয়টা আমাদের প্রোয়োজনের সাথে যায় না তাছাড়া এর ব্যবহার কেবল ছোট ছোট খেলনা বানানোতেই সীমাবদ্ধ রয়ে গিয়েছিল,  বিগত সময়গুলোতে।  3D printer এ মূলত এমন কিছু প্রিন্ট করা সম্ভব যা ত্রিমাত্রিক হবে।  যেমন একটা কলম কিংবা সাইকেলের টায়ার কিংবা আপনার জুতাও৷ অর্থাৎ, ইন্টারনেট থেকে একটা জুতার 3D মডেল ডাউনলোড করলেন, আপনার ...

শিলা:২

টিনের ঘরে যে এত ছিদ্র থাকে , সেটা আগে আমি জানতাম না । সকালবেলা তো ,তাই বোঝা যাচ্ছে । এখন মনেহয় সাতটা পেরিয়েছে । শীতের দিন তো, তাই বোঝা যাচ্ছে না ।কাল মনে হচ্ছিল , আজ রাতে আর ঘুম ধরবে না । কিন্তু , ঘুম ভালই হয়েছে । এই কনকনে ঠান্ডায় লেপটা বেশ কাজে দিয়েছে , যদিও আরামদায়ক ছিল না । আমাদের দুজনকে যে লেপটা দেয়া হয়েছে , সেটার গায়ে অনেক লেখা আর ছবি । “রহিম সীডস” , “রহিম সীডস” , “রহিম সীডস”-এরকম কিছু লেখা । লেখার পাশে লাল রঙের কিছু বীজের ছবি । কে জানে , কীসের বীজ হতে পারে এগুল ো । নীচে কারখানার ঠিকানাও দেওয়া আছে । লেপটার গায়ে এরকম লেখা কেন কে জানে ? কালকে একটা টিনের বাক্র থেকে আমাদের লেপটা বের করে দেয়া হয়েছে । মনেহয় এরা এটার খুব যত্ন করে । আমার বেড পার্টনার মরিয়ম এখন গভীর ঘুমে আছে । এই মেয়েটার সাথে এখনও আমি কথা বলি নি । আমাকে দেখলেই কেমন হা করে তাকিয়ে থাকে । মাকে জিজ্ঞেসা করেছিলাম, মা বলেছে ও নাকি আমার সম্পকে নাতি হয় । মানে আমি ওর দাদি বা নানি । দাদি বা নানি হতে হলে তো আমাকে আগে বিয়ে করতে হবে , আমার বাচ্চাদের আবার বাচ্চা হতে হবে ।  আমি হলাম কী করে কে জানে ? মেয়েটা সারারাত...